ডেঙ্গু প্রতিরোধে শ্রীমঙ্গলে বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

September 24, 2026,

স্টাফ রিপোর্টার : শ্রীমঙ্গলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সভাকক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলামিস্ট, আরপি নিউজের সম্পাদক এবং ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট’ বিশেষ প্রতিনিধি কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু এখন শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এর বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধের ওপর আমাদের সর্বোচ্চ জোর দিতে হবে।”

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ও বসুন্ধরা শুভসংঘের উপদেষ্ঠা মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সদস্যরা অংশ নেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা, ব্যবসায়ী মো. হাফিজ আহমেদ, শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. আখতার হোসেন,  প্রবীণ সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এম এ রকিব এবং শ্রীমঙ্গল আইডিয়াল স্কুলের প্রিন্সিপাল এহসান বিন মুজাহির।

এছাড়া বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ জুলহাকাম, সদস্য তপন বৈদ্য ও মো. ফজলে রাব্বি প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাজল হাজরা, আফজাল মিয়া, আরিফ আহমেদ, শরীফ আহমেদ।

পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক চিত্র :

সভায় বক্তারা  শ্রীমঙ্গল পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত মশকনিধন ও স্প্রে কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা জানান, মৌলভীবাজারে ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের সংক্রমণও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

হাম পরিস্থিতি: জেলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন হাম রোগী (৩০ শিশু ও ২০ প্রাপ্তবয়স্ক) ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৫ শিশুর মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়া গেছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: জেলায় এ পর্যন্ত ৭৭৬ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩২ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন শনাক্ত হন। বর্তমানে সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও বহু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সচেতনতা প্রতিরোধমূলক নির্দেশনা :

সভায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে কিছু সুনির্দিষ্ট করণীয় তুলে ধরা হয়:

এডিস মশা পরিষ্কার ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়িঘর, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ ও ড্রেনে যেন দীর্ঘদিন পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মশার কামড় এড়াতে নিয়মিত মশারি ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।  জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথার মতো ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা পরিশেষে উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কেবল প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়। সম্মিলিত সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং একটি নিরাপদ শ্রীমঙ্গল গড়ে তোলা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com