একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মৌলভীবাজার ৪ আসনে আওয়ামীলীগের প্রচারনা জমজমাট, বিএনপি দৌড়ের ওপর, ভোটাররা নিরব অবস্থানে

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৮ মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ) আসনের মহাজোট মনোনীত প্রার্থী প্রচার- প্রচারনায়, উঠান বৈঠকে ও গণসংযোগে তৎপর। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী গনসংযোগ করলেও তাদের নেতা-কর্মীরা মামলা ও ধরপাকড়ের ভয়ে দৌড়ের ওপর আছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে তেমন একটা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছেনা। ভোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোন কথা বলছেন না। যেন অনেকটা নিরব অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রচার-প্রচারনায় ও উঠান বৈঠকে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
আওয়ামীলীগ মনোনীত মহাজোট প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদেও পক্ষে শ্লোগানে মূখর কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল নির্বাচনী এলাকা। দলীয় নেতা-কর্মী, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ নৌকা প্রতীকের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিনই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নানামূখী প্রচারে ও গণসংযোগ শহর, গ্রাম, পাড়া, মহল্লা মূখরিত। এছাড়া পোষ্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সব অলিগলি। প্রচারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে মাইকিং, লিফলেট, ব্যানার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। নৌকার প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এই আসন থেকে টানা ৫ বারের নির্বাচিত সাংসদ। ৬ষ্ঠ বারের জন্য এবার লড়াইয়ে নেমেছেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারনায় ১০ বছরের এলাকার উন্নয়নের নানা পিরিস্তি তুলে ধরছেন। এলাকার প্রত্যন্ত এলাকা বিদ্যুতায়ন করেছেন। রাস্তা-ঘাট পাকা করন করেছেন। কমলগঞ্জকে পৌরসভায় উন্নীতকরণসহ নানা উনয়ন করেছেন।
আলাপকালে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার থাকার কারণেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এলাকার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে চলাফেরা করতে পারছেন। এই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে মানুষে পাশে ছিলাম সব সময়। তাই আপনাদের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার আছে একমাত্র আমারই।
কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ আহ্বায়ক ও কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকার বিকল্প নেই। জোর নির্বাচনী প্রচারণার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিগত ১০ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরেই আবারও নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিএনপি’র প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোট চাইতে পারলেও তার নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা হামলা- মামলা, পুলিশী হয়রানীর কারণে দৌড়ের ওপর আছেন। তাই নিজের জীবনের ও কর্মী সমর্থকদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। স্থাানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, তার দলীয় নেতীকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করছে। আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীর বাঁধার মুখে মৌলভীবাজার-৪ আসন (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)- এর কমলগঞ্জে বিএনপির প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর পক্ষের ৩টি উঠান বৈঠক পন্ড হয়ে যায়।
অন্যদিকে ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নের জালালপুর ঈদগাহ সংলগ্ন নৌকা মার্কার প্রচারকর্মীদের উপর হামলা ও রিক্সায় অগ্নি সংযোগের অভিযোগ করা হয়েছে। রিক্সা চালকসহ ৩জন আহত হওয়ারও অভিযোগ করা হয়। এদিকে ঐদিন রাত সাড়ে ৮টায় আদমপুর ইউনিয়নের নইনারপার বাজারে আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে জুঁই টেলিকম, রহমত আলীর জুতার দোকান ও মোজাহিদুল ইসলামের ফার্মেসীতে ভাংচুর করে বলে বিএনপি থেকে অভিযোগ উঠেছে। ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার শমশেরনগরে নৌকা মার্কার প্রচারের একটি মাইক্রোবাসে হামলা চালিয়ে চালকসহ ৬ জন প্রচারকর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ করা হয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে। এ ঘটনায় শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামী করে মামলা করারও অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন দৌড়ের ওপর আছেন।
অন্যদিকে অন্য যে কোন স্থানীয় ও সংসদ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদেও মধ্যে যে উচ্ছ্বাস বা প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে আলাপ-আলোচনায় সবর অবস্থা দেখা দিত এবারের নির্বাচনে তেমনটা দেখা যাচ্ছেনা। চায়ের দোকান বা অফিস-আদালতে, কিংবা কোন আড্ডায় ভোট নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই বললেই চলে। ভোট নিয়ে সাধারণ ভোটাররা অদৃশ্য আতংকের মধ্যে আছেন। কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারের ৫০ বছর বয়সি ভোটার নুর মিয়ার সাথে ভোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ভোটর
(ভোটের) দিন আউক (আসুক) বা তখন দেখা যাইবোনে (যাবে) কিতা করি। ভোটার আহমদ আলী, সোহেল রানা, আলাল মিয়া বলেন, অখন সময় ভালা (ভাল) নায় (নয়), কোন সময় কিতা (কী) হয় কওয়া (বলা) যারনা (যায় না)। ভোট নিয়া আলাপ না করাই ভালা। ভোটর দিন আইলে একটা ভোট দিলাইমু। আর কিতা।



মন্তব্য করুন