শিশুটির ইজ্জতের মুল্য ৮ হাজার টাকা দেয়া হলো

April 6, 2019,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি কমলগঞ্জে তানজিলা নামের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে মোতালিব মিয়া নামের এক লম্পট ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। ওই শিশুটি শনিবার ৩১ মার্চ সকালে স্কুলে যাবার পথে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের লম্পট মোতালিব মিয়ার বসত ঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে শিশুটির ইজ্জতের মুল্য ৮ হাজার টাকা ধার্য্য করে রায় ঘোষণা করে লম্পট মোতালেবের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়।

এ নিয়ে স্থানীয় রামচন্দ্রপুর গ্রামের দুটি পক্ষের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। আলাপকালে শিশু তানজিলা, স্থানীয় লোকজন ও শিশুটির বাবা মানিক মিয়া জানান, প্রতিদিনের মত শিশু জান্নাতুল ফেরদৌস তানজিলা ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাচ্ছিল। স্কুলে যাবার পথে পাশের বাড়ির সহপাঠি রাজনকে স্কুলে নিয়ে যাবার জন্য ডাক দেয়। এ সময় রাজনের মা তাকে তাদের ঘরের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতে বললে তানজিলা রাজনদের ঘরের বারান্দায় দাঁড়ায়। এ সময় বসত ঘর থেকে রাজনের বাবা লম্পট মোতালিব মিয়া (৪৫) তানজিলার হাতে ধরে টানে বসত ঘরে নিয়ে বিছানায় ফেলে শিশুটির গায়ের কাপড় টানা হেঁচড়া করে পায়জামা খুলে শরীরের গোপন অঙ্গসহ বিভিন্ন জায়গায় সুরসুরি ও কামড়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন শিশু তানজিলা চিৎকার করলে রাজনের মা আম্বিয়া বেগম ছুটে এসে তানজিলাকে তার লম্পট স্বামীর হাত থেকে রক্ষা করেন। পরে মোতালিব মিয়া ও তার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম শিশু তানজিলাকে হুমকি দিয়ে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। তারা শিশুকে হুমকি দেয় ঠিক এইভাবে “তুই এই ঘটনা ঘরের কারো কাছে বলিছ তাহলে তোকে একলা পেলে ধরে নিয়ে মেরে ফেলবো”! মেরে ফেলার হুমকিতে ভয় পেয়ে ঘটনাটি পরিবারের কাউকে মুখ খুলে বলেনি শিশুটি। তবে ঘটনার পর থেকে তানজিলা একা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিলে তার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। ঘটনাটি কি ভাবে আপনারা জানলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শিশুটির মা পারভিন বেগম বলেন,গত তিন চারদিন ধরে আমার মেয়ে তানজিলা একা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছিল। হঠাৎ করে একা-একা স্কুলে যেতে  রাজি না হওয়ায় তাকে স্কুলে নিয়ে যাবার সময় আমাকে বলে তুমি আমারে স্কুলে আনা-নেওয়া না করলে আমি আর স্কুলে যাব না। শিশুটির মুখে এমন কথা শোনে তার কাছে জানতে চাই কি হয়েছে! কেন স্কুলে যাবে না। তখন মেয়েটি ঘটনাটি আমাদের কাছে খুলে বলে। পরে আমরা স্থানীয় মেম্বারসহ এলাকার মুরব্বিদের জানাই।

ঘটনাটি শোনার পর সোমবার দুপুরে স্থানীয় মুরব্বিরা শিশুটির বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসেন। এ সময় সালিশগণ শিশুটির পরিবারের কাউকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বিচারের নামে লম্পট মোতালিবের উপরে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আলাপকালে অভিযুক্ত লম্পট মোতালিব মিয়া ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ ও সালিশ বৈঠকের কথা অস্বীকার করে বলেন, তানজিলা সম্পর্কে নাতিন হওয়ায় তাকে ঘরে ডেকে নিয়ে কথা বলছিলাম। এ সময় সে বিয়াদবি করলে শিশুটির কান ঢলে বিচার করি। এর বাহিরে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য বুলবুল আহমেদ শিশুটির বাড়িতে সালিশ বৈঠকে বসার কথা স্বীকার করলেও তিনি শিশুটি ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেননি। যদি শিশু ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টাই না হয় তাহলে কি নিয়ে সালিশে বসলেন আর জরিমানা কেন করলেন? এমন প্রশ্নের কোন জবাব মিলেনি ইউপি সদস্য বুলবুলের কাছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com