কমলগঞ্জে এনডিএফ’র আলোচনা সভা

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ লেনিন দিবস ও ঐতিহাসিক খাপড়া ওয়ার্ড দিবস উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার ২৪ এপ্রিল বিকাল ৩টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মহামতি লেনিনের ১৪৯ তম জন্ম দিন ও ঐতিহাসিক শহীদ খাপড়া ওয়ার্ড দিবস পালন উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এনডিএফ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ সাগ্নিক এর সভাপতিত্বে ও ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন কৃষক সংগ্রাম সমিতি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক ডা. অবনী শর্ম্মা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মো. নূরুল মোহাইমীন, কৃষক নেতা রমজান আলী, সিদ্দিকুর রহমান, চা শ্রমিক সংঘের নেতা হরিনারায়ন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মৃগেন চক্রবর্তী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, দুনিয়ার নিপীড়িত, শোষিত, বঞ্চিত জাতি ও জনগণের অবিসংবাদিত নেতার বিপ্লবী চিন্তা চেতনা দ্বারা শাষক শোষক শ্রেণির পরিবর্তন ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। খাপড়া ওয়ার্ডের সাত শহীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস ভূলে গেলে ইতিহাসকে অস্বীকার করা হবে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তেভাগা আন্দোলন, টংক আন্দোলন সহ অঞ্চল ভিত্তিক কৃষকরা নানা আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলেন। এসব কৃষক অংশ নেয়া প্রায় এক হাজার কৃষক আন্দোলনের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেশের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়। আর কারাগার গুলোতে দেশের কৃষক নেতাদের উপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। বক্তারা আরও বলেন, এই সময়ে ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী সহ বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দিরা অনশন কর্মসূচী পালন করেন। রাজশাহী জেলে সাধারণ কয়েদিদের ঘানি টানানো বন্ধ করা, ভালো খাবার দেয়ার দাবিতে অনশন করেন। অনশন শেষ হওয়ার পরও ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে কমিউনিষ্ট রাজবন্দীদের উপর কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ গুলিবর্ষন করে। পুলিশের গুলিতে সাত কমিউনিষ্ট বিপ্লবী নিহত ও অনেকেই আহত হন। অতীত আন্দোলনের ঐতিহাসিক এসব শিক্ষায় বর্তমান তরুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধের মধ্যেদিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই কৃষক শ্রমিকের মুক্তি সম্ভব নয়।



মন্তব্য করুন