কমলগঞ্জে এক ছাত্রীর সাহসী ভূমিকা নিজের বিয়ে রুখতে প্রধান শিক্ষকের সাহায্য চাইলো দশম শ্রেণির ছাত্রী

April 27, 2019,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জে বাল্য বিবাহ রুখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাহায্য চেয়ে আবেদন করলো দশম শেণির এক ছাত্রী শ্রাবনী কর (১৬)। তার বাবা শমশেরনগর চা বাগানের দরিদ্র চা শ্রমিক রাম গড়। বাবা অপ্রাপ্ত বয়সে মেয়ের বিয়ে দিতে পাত্রপক্ষকে নিয়ে রোববার ২৮ এপ্রিল আলোচনায় বসবেন। ছাত্রীটি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনেগর হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। ছাত্রী আরও লেখা পড়া করে প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করতে চায়। বিষয়টি বাবাকে বোঝালেও কোন কাজ হচ্ছে না। অবশেষে নিজের বাল্য বিবাহ রোধ করতে ও বিবাহের হাত থেকে রক্ষা করার সাহায্য চেয়ে শনিবার ২৭ এপ্রিল সকালে বাল্য বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের কাছে ছাত্রীটি লিখিত আবেদন করে।

চা বাগানগুলিতে বাল্য বিবাহ একটি সাধারণ বিষয় বলে দশম শ্রেণির এ ছাত্রীর বাবাও তার বিয়ের জন্য আলোচনা করতে পাত্র পক্ষকে রোববার তার বাসায় আমন্ত্রণ জানান। এ বিষয়টি টের পেয়ে ছাত্রী অবশেষে শনিবার সকালে বিদ্যালয়ে এসেই প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত আবেদন করে বাল্য বিবাহের হাত থেকে রক্ষা করার অনুরোধ জানায়।

ছাত্রীর আবেদন পেয়ে হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো, নুরে আলম সিদ্দিক শনিবার দুপুরেই দ্রুত পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের ডেকে এনে আলোচনাক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, তিনি সরকারি কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিষয়টি তিনি শুনেই বর্তমানে কমলগঞ্জে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তারকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশনা দিয়েছেন। হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম সিদ্দিক এ প্রতিনিধিকে বলেন, ছাত্রীর আবেদন পেয়ে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তারের ফোন পেয়ে তিনি (প্রধান শিক্ষক) নিজে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রী আবেদনটি দিয়ে এসেছেন।

ছাত্রীর বাবা রাম কর বলেন, সুযোগমত একটি ভাল বর পেয়েছেন। তাই বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এটি একটি বাল্য বিবাহ হবে আর বাল্য বিবাহ আইননত দন্ডনীয় অপরাধ বলতে তিনি বলেন, বিয়ে ঠিক করে রেখে দিবেন। পরে মেয়ের বিয়ে দিবেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমী আক্তার বাল্য বিবাহের চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার ছাত্রীর বাড়িতে বরপক্ষ আসলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com