কমলগঞ্জে ঘূর্নিঝড় ফণীর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতে জন জীবন বিপর্যস্থ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কম

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ ঘূর্নিঝড় ফণীর প্রভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সারা দিনের টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ধমকা বাতাসের সাথে বৃষ্টিপাতে সড়কে যানবাহন চলাচল ও ছিল কম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল খুবই কম। ধলাই নদীসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ায় পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কমলগঞ্জে ধমকা বাতাসসহ হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সারারাত বৃষ্টির পর শনিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ফলে শনিবার কমলগঞ্জের হাট বাজারে মানুষজনের উপস্থিতি ছিল না। মানুষজন বাড়ি ঘর থেকে তেমন বের হতে দেখা যায়নি। সড়কে যানবাহনের পরিমাণও ছিল কম। বৃষ্টির কারণে শমশেরনগর, কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের ভানুগাছ বাজার, পতনউষার, মুন্সীবাজার ও আদমপুর বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারের অধিকাংশ দেকানপাঠ বন্ধ ছিল বেলা ২টা পর্যন্ত। বৃষ্টির কারণে কমলগঞ্জে খেটে খাওয়া মানুষজনের বেশী কষ্ট হয়েছে। বৃষ্টির কারণে তারা ঘরের বাইরে কাজ করতে যেতে পারেনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র উপস্থিতি কম থাকার কারণে তেমন কোন ক্লাস হয়নি। হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিক ও শ্রীসূর্য্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক চম্পা রানী নাথ, আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক সৈয়দ হারুনুর রশীদ বলেন, বৃষ্টির কারণে ও ঘূর্ণিঝড়ের ভয়ে স্কুলে নাম মাত্র কয়েকজন ছাত্র উপস্থিত হয়েছিল।
শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে ৪ মে শনিবার ভোর পর্যন্ত কমলগঞ্জে ২৬ দশমিক ৬ মি:মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৪ মি:মি:। তিনি আরও বলেন, রাতেও আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, ঘূর্নিঝড় ফণীর কারণেই এই বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির কারণে মানুষজন তেমন একটা ঘরের বাইরে বের হয়নি। বৃষ্টির কারণে ধলাই নদীসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিপদ সীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ আবহাওয়া ও নদ-নদীর দিকে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক নজরদারী করছে।



মন্তব্য করুন