মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে কমলগঞ্জে মণিপুরী ভাষা দিবস উদযাপিত

August 24, 2019,

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ মণিপুরী জাতির মাতৃভাষার নাম ‘মণিপুরী ভাষা’। এই ভাষা সেই প্রাচীনকাল থেকেই মণিপুরী জাতির মূলভূমি ভারতের অন্যতম রাজ্য মণিপুরের সরকারি ভাষা এবং এই ভাষায় সেখানে শিক্ষামাধ্যমের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। মণিপুরী ভাষা ও সাহিত্যের রয়েছে কয়েক হাজার বৎসরের সুপ্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ভারতে মণিপুরী ভাষাভাষীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট ভারত সরকার সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মণিপুরী ভাষাকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাই সারা বিশ্বের মণিপুরী ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী এই দিনটিকে ‘মণিপুরী ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে। বিগত কয়েক বৎসরের ধারাবাহিকতায় এবারও মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে মণিপুরী ভাষা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরী ভাষা দিবস-২০১৯ উদযাপিত হয়েছে।

শুক্রবার ২৩ আগস্ট সকাল ১১টায় উপজেলার তেতইগাঁওস্থ মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কবি এ কে শেরামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম, সমাজসেবা সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ঢাকার উপ কর-কমিশনার শান্ত কুমার সিংহ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম ও মণিপুরী কালচারেল কমপ্লেক্সের আহ্বায়ক এল জয়ন্ত সিংহ। শান্ত কুমার সিংহের উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল ইবুংহাল শ্যামল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খোইরাম কামিনী সিংহ, আব্দুস সামাদ, মো. আবদুল মতিন, অহৈবম রণজিৎ, হিরন্ময় সিংহ, চন্দ্রজিৎ সিংহ, সমেন্দ্র সিংহ প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মণিপুরী ভাষার মতো সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের একটি উন্নত ভাষাকে দ্রুত সাংবিধানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মণিপুরী ভাষা ভিন্ন নাম-পরিচয়ে উপস্থাপিত হচ্ছে উল্লেখ করে বক্তারা আরো বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়েই মণিপুরী ভাষাকে তার প্রকৃত পরিচয়ে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে বিকাল ৩ টায় প্রাথমিক শিক্ষকদের অংশগ্রহণে মণিপুরী বর্ণমালা নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালা পরিচালনা করেন কবি এ কে শেরাম।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com