লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের বেহাল দশা

নজরুল ইসলাম মুহিব॥ কমলগঞ্জে –শ্রীমঙ্গল উপজেলার বন্যপ্রাণীর নিরাপদ অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারটি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
রেসকিউ সেন্টারে বন্যপ্রাণী থাকলে ও তাদের সেবা ও চিকিৎসা প্রদানের জন্য নেই কোনো দক্ষ চিকিৎসক।
লাউয়াছড়া বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র রক্ষার পাশাপাশি ভ্রমণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পশ্চিম ভানুগাছ (কমলগঞ্জ উপজেলা) সংরক্ষিত বনের প্রায় ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ৪৬০ প্রজাতির দুর্লভ বন্যপ্রাণী ও গাছপালা এবং জীববৈচিত্র। এর মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর, ৬ প্রজাতির সরিসৃপ, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ২৪৬ প্রজাতির পাখি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সিলেটের আওতাধীন এই বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনের জানকিছড়া ক্যাম্পের ভেতরে তৈরি করা হয় ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার।
রেসকিউ সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির চারদিক ঝোঁপে আচ্ছাদিত রয়েছে। অনেকটাই ভুতুরে অবস্থা।
প্রাণীগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪-৫ জন লোকের প্রয়োজন থাকলেও দু’জন দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ওয়াউল্ড লাইফ স্কাউট ও অন্যজন বনপ্রহরী।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জুনিয়র ওয়াউল্ড লাইফ স্কাউট ঋষু বড়ুয়া সেখানে থাকা বন্যপ্রাণীদের দেখাশুনা করেন। তবে তার অবর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকেন তার সহকারি বনপ্রহরী মো. ইব্রাহিম।
অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্নতার মধ্যেই রেসকিউ সেন্টারটিতে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া ২টি মেছোবাঘ, ৫টি বানর ও ছোট-বড় ৩টি বার্মিজ অজগর সাপ রয়েছে।
সেন্টারটিতে আক্রান্ত-অসুস্থ প্রাণীকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলার পর আবার বনের নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করার কথা। তবে প্রাণী চিকিৎসক না থাকায় আক্রান্ত প্রাণীর ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এ কেন্দ্রে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মাছুদার রহমান সরকার জানান জেলার বিভিন্ন স্থানে ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অসুস্থ এবং উদ্ধারকৃত প্রানীর সেবা ও নাসিং এর জন্য পশু চিকিতসক,প্রাণীসেবা কর্মী থাকা প্রয়োজন,এমনকি প্রযোজনী জরুরী সেবা নিতে স্থানীয় প্রাণীসম্পদ বিভাগ সেবা দিতে প্রস্তুত। স্থাণীয় পশুসম্পদ চিকিৎসা কেন্দ্রের সহায়তা নেন। গত তিন বছর ধরে চিকিৎসক ছাড়াই চলছে এই রেসকিউ সেন্টারটি।
শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দাশ জানান জনবল ও চিকিৎসক সংকটের কারণে শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন বেসরকারি সংগঠনের কর্মীরা বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে সেবা শুশ্রষা করছেন।
লাউয়াছড়া বনবিটের রেঞ্জার মোনাইম হোসেন বলেন, জনবল সংকটের কারণে রেসকিউ সেন্টারটির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসক নেই। জনবল নিয়োগ দিলেই পুনরায় প্রাণ ফিরে পাবে সেন্টারটি।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া বলেন, বণ্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অনেক প্রাণী খাদ্যের জন্য লোকালয়ে গেলে স্থানীয়দের হাতে এমনকি মাঝে মধ্যে শিকারিদের হাতে আটকা পড়ে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকার পরও বন বিভাগ এসব প্রাণী উদ্ধার করে নিয়ে আসেন লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে। কিন্তু উদ্ধার হওয়া আহত প্রাণীগুলোর চিকিৎসার জন্য নেই কোনো পশু চিকিৎসক পাওয়া যায় না।
বন্যপ্রাণীর স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন।



মন্তব্য করুন