কমলগঞ্জে রাতের আঁধারে বিধবা নারীর জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের পায়তারা : প্রশাসনের দ্বারস্থ হবার পরও রহস্যজনক কারনে নিরব

May 17, 2020,

স্টাফ রিপোর্টার॥ কমলগঞ্জের পৌরসভার উজিরপুর এলাকার এক বিধবার জায়গা রাতের আঁধারে জামায়াত-শিবিরের দোসররা দখল করে রাস্তা নির্মাণের পায়তারা করছে। অথচ এ জায়গা দিয়ে কখনো কোনও রাস্তা ছিলনা। যে বাড়িটির সুবিধার জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হবে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের বেশ কয়েকটি রাস্তা রয়েছে। এবিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির কাছে বারবার দরখাস্থ্য করেও বিধবা মহিলা কোনও সুরাহা পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীসহ বিধবা মহিলাটি ইতিপূর্বে এলাকায় মানব বন্ধনও করেছেন। রাতের আঁধারে বারবার রাস্তা নির্মাণের চেষ্ঠা করলে দুই গ্রামের মধ্যে চলছে চাপা উত্তেজনা। প্রশাসন বলছে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

থানায় ও বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ ও এলাকাঘুরে জানা যায়, বিধবা মহিলা বেনজির জাহানের স্বামী নাজির আহমদ এক বছর পূর্বে মারা যান। এক বছর থেকে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অতি কষ্ঠে দিনাতিপাত করছেন তিনি। তার পিতার দেয়া ২২ শতক জায়গা যাহার দাগ নাম্বার ২২৪০, মৌজা- কুমড়াকাপন,খতিয়ান নাম্বার ২২৮৪, জমা খারিজ মোকদ্দমা নাম্বার ১০৮৮/২০০৭, জায়গার পরিমান ২২ শতাংশ। দীর্ঘদিন থেকে জায়গাটি বর্গা চাষ করিয়ে ফসল দিয়ে সংসার চালান। কিন্তু হঠাৎ করে বিগত ০২/০৫/২০২০ ই তারিখে রাতের আঁধারে বাল্লার পার গ্রামের মৃত জামায়াত নেতা মক্কী মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ গংসহ ৪০/৫০ জনের একটি দল জোর পূর্বক তার জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করে।

পরের দিন তিনি খবর পেয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রশাসনে অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনও সুরাহা না হওয়ায় গত ৭ মে এলাকাবাসির উদ্যোগে মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। ইতিমধ্যে তিনি উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন ও পৌরমেয়র বরাবরে রিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারনে প্রশাসন নিরব রয়েছে। এলাকাবাসী আব্দুল্লাহ্, আমিন, আবদাল, লিয়াকতসহ অনেকেই বলেন, বিধবার জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, তারা জায়গা পূনরুদ্ধারের জন্য জননেতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে বিধবা মহিলা বেনজির জাহানের সাথে কথা বললে তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করে জানান, এক বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। ৪ টি বাচ্চা নিয়ে খুবই অসহায় অবস্থায় আছেন। এই জমি ছাড়া অন্য কোনও জায়গা নেই, এখানে ফসল ফলিয়েই তিনি বাচ্চাদের লালন-পালন করেন। তার একটি ছেলে অনার্স, একটি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, আরেকটি মেয়ে শাহিন কলেজ থেকে এসএসসি দিয়েছে এবং ছোট ছেলেটি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। স্বামী মারা যাবার পর পিতার সাহায্যেই চলেন। তিনি আরও বলেন, আবু তালেব, ফয়ছল, পাখি, মছব্বির,হাবিব, আলমসহ অন্যরা তার জমির একাংশ রাতের আঁধারে দখল করে রাস্তা নির্মাণ করে।

তিনি বলেন, টাকার অভাবে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধের পথে। তিনি আরও বলেন, এখানে পূর্বে কোনও রাস্তা ছিলনা। তিনি প্রশাসন মেয়রসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।  তিনি বলেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল কর্মকর্তা, র‌্যাব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার(ভূমি), পৌর মেয়র ও থানায় তিনি অভিযোগ দিলেও কোনও সহযোগীতা পাচ্ছেন না। ওইদিন পরেও গত কয়েকদিন অভিযুক্তরা রাধের আঁধারে রাস্তা নির্মাণ করতে চাইলে এলাকাবাসি বাঁধা দিলে তারা রাস্তা নির্মাণ করতে পারেনি বলেও জানান। মেয়রের ডাকে যেতে না পারার বিষয়ে বলেন, ওইদিন তাড়াহুড়ো করে সালিশের জন্য ৫ জনকে রেডি করতে পারেননি বা তার আত্মীয় স্বজন ঢাকায় থাকাতে করোনাকলীন সময়ে আসতে পারেননি বলে বৈঠকে যেতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা কেন বিষয়টি সমাধান করে দিচ্ছেন না, তা তার বোঝে আসছেনা।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ফয়সল আহমদের কাছে জানতে চেয়ে তার মোবাইল নাম্বার ০১৭১৯৪৪৮১৯১ এ বার বার ফোন ও এসএমএস দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করাতে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জায়গাটি মহিলার। এবিষয়ে তিনি প্রদক্ষেপ গ্রহন করছেন। ইতিমধ্যে মেয়রের সাথে কথা হয়েছে, চেষ্ঠা চলছে সালিশের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে। তিনি আরও বলেন, পরে এবিষয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ত্রনে আনে।

এবিষয়ে পৌর মেয়র জুয়েল আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি জানার পর পৌরসভায় বিষয়টি নিয়ে বসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মহিলা না আসাতে বৈঠক হয়নি। তিনি আরও বলেন, মহিলা একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন কিন্তিু করোনা ভাইরাসের কারনে বিচার কার্য বন্ধ থাকাতে নোটিশ করতে পারছেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি ওসি’র সাথে কথা বলেছেন। পুলিশ প্রশাসন চেষ্ঠা করলে একটা সমাধান হতে পারে।

এবিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবিষয়ে তিনি কোনও দরখাস্থ্য পাননি। তিনি বলেন, এটা পুলিশ প্রশাসনের বিষয়। তিনি আরও জানান, বিষয়টি শুনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। তার কাছে মহিলাটি আসলে সাহায়্যের আশ্বাস দেন তিনি।

এব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আশরাফুজ্জামান বলেন, তিনি অভিযোগ পাবার পর স্থানীয় কমলগঞ্জ থানাকে এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য লিখিতভাবে বলা হয়েছে। তিনি জায়গাটি পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, রাতের আঁধারে বিধবা’র জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ বে-আইনি। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, এভাবে চলতে দিলে যে কোনও সময় যে কারও জায়গার উপর দিয়ে জোর ও টাকা থাকলে যে কেহ রাস্তা নির্মাণ করে নেবে। তাতে সমাজে আইন ও বিচার বলতে কিছু থাকবেনা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com