মাদকের অভিযান চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে, প্রভাবশালীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

আশরাফ আলী॥ সীমান্তবর্তী মৌলভীবাজার জেলায় মাদকের ব্যাপক ছড়াছড়ি। জেলায় মাদকের চাহিদা যেমন আছে, তেমনি সরবরাহও আছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবকদের বেশ বড় একটা অংশ এই মাদকাসক্তির শিকার। শুধু এই বয়সীদের মধ্যেই যে সীমাবদ্ধ তা নয়, পূর্ণবয়স্ক, এমনকি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও মাদকাসক্তি ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস ৮২৩ অভিযান পরিচালনা করে। তার মধ্যে জানুয়ারীতে ৬০টি, ফেব্রুয়ারীতে ৪৮টি, মার্চে ৩৯টি, এপ্রিলে ১৫টি, মে মাসে ৬০টি, জুনে ৪৮টি, জুলাইয়ে ৪৯টি, আগস্টে ৮৯টি, সেপ্টেম্বরে ৮১টি, অক্টোবরে ৮৫টি, নভেম্বরে ৮৩টি ও ডিসেম্বরে মাসে ১৬৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
হিসেব অনুযায়ী দেখা যায়, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে চারশত অভিযান বেশী পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে ও এপ্রিল মাসে সাধারণ ছুটি থাকলেও রিপোর্টে দেখা যায় এই দুই মাসে অভিযান পরিচালিত হয় ৫৪টি। তবে উপ পরিচালক বলছেন রিপোর্টটি ভুলঃবশত।
সাধারণ মানুষের ধারণা, মাদকের বিস্তারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হাত আছে। তারাই মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক। তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মাদক পূর্ণবাসন কেন্দ্রের একজন বলেন, স্থানীয়ভাবে যারা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যাদের আটক করা হচ্ছে, তারা মাদকসেবী ও সাধারণ খুচরা বিক্রেতা। যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন বা মূল পাচারকারী, তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন না। কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে আবার কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায়ই আছেন।
লেখক ও সমাজকর্মী এডভোকেট আবু তাহের বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস শুধু গাঁজা, অবৈধ চোলাইমদ ও ইয়াবার বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। শুধু চুনোপুটিদের বিরুদ্ধে অভিযান করলে হবে না। ফেনসিডিল, হিরোইন ও বিদেশী মদ সহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। যারা মাদকের প্রভাবশালী তাদের ধরলে চুনোপুটিরা এমনিতেই ধরা পড়বে। ঐ যে কান টানলে মাথা আসবে।
জেলা যুবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলিম উদ্দিন হালিম বলেন, আমি নিজে প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের নাম দিয়েছি কর্তৃকপক্ষের কাছে। কিন্তু দেখা যায় তাদের বিরোদ্ধে অভিযান তো হয়নি বরং ঐ মাদক ব্যবসায়ীরা অভিযোগের ব্যাপারে জেনে যায়।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় অফিসের উপ পরিচালক মোহাম্মদ হাবিব তৌহিদ ইমাম বলেন, মাদকের বড় ব্যবসায়ীরা তারা ঘরে এবং নিজে মাদক পরিবহণ করে না। শুধু চুনোপুটিদের বিরোদ্ধে না, যাদের বিরোদ্ধে অভিযোগ আছে সকলের বিরোদ্ধে অভিযান চালাই।
তিনি আরও বলেন, যারা মাদক পরিবহণ করে ধরা পড়লে কখনোই তারা স্বীকার করে না, এগুলো কার কাছ থেকে আনে। এক্ষেত্রে অবশ্য তাদের গোপন চুক্তি থাকতে পারে। আবার অনেকে মাদকসহ ধরা পড়লে কিভাবে এগুলো আসছে তা স্বীকার করে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্চের শেষের দিকে ও এপ্রিল মাসে করোনার প্রকোপের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় কোন অভিযান হয়নি। এই দুই মাসে অভিযানের তথ্যটি ভুলঃবশত রিপোর্টে চলে গেছে।



মন্তব্য করুন