কুলাউড়া ও বড়লেখায় আকস্মিক বন্যা ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সিআরএস ও কারিতাসের জরুরি সহায়তা প্রদান

September 30, 2026,

সাজু মারছিয়াং : কুলাউড়া ও বড়লেখায় সিআরএস ও কারিতাস বাংলাদেশের উদ্যোগে জরুরি সহায়তা প্রকল্প সম্পন্ন।

চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রন্থ জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন পূরণ, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলায় একটি জরুরি সহায়তা প্রকল্প ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস -এর অর্থায়নে এবং ক্যারিতাস বাংলাদেশ এর বাস্তবায়নের প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় ভূমিধসে ক্ষতিগ্রন্থ কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার ২৩০ জনকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রন্থ পরিবারগুলো নিজেদের প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগের পর পরিবারের জরুরি প্রয়োজন মেটানো, ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি বা সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং জীবিকা পুনরায় সচল করার ক্ষেত্রে এ নগদ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শর্তহীন নগদ সহায়তার অন্যতম সুবিধা হলো, উপকারভোগীরা নিজেরাই তাঁদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন নির্ধারণ করে অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

তাছাড়া প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি পর্যায়ে ভূমিধসের ঝুঁকি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ কুলাউড়া ও বড়লেখা এলাকার বিভিন্ন পান পুঞ্জিতে সিঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচল সহজ ও নিরাপদ করার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয়ভাবে নির্মিত এসব সিঁড়ি ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় মানুষের নিরাপদ চলাচলে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জরুরি পরিস্থিতিতে কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে আশাবাদী। সিড়ি নির্মাণের ফলে আদিবাসী স্কুলগামী শিক্ষার্থী, পান বহনকারী শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। এতে করে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজ ও উন্নততর হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটির লক্ষ্য শুধু দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়; বরং তাঁদের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো।

একদিকে নগদ সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। অন্যদিকে কমিউনিটি পর্যায়ে সিঁড়ি নির্মাণের মতো উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ চলাচল ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। এভাবে প্রকল্পটি ক্ষতিগ্রন্থ পরিবারের পুনরুদ্ধার এবং কমিউনিটি পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দুই বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় পুঞ্জির বাসিন্দারা বলেন, সিড়ি নির্মাণের পূর্বে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে আমরা অতি কষ্টের মধ্যে দিয়ে পুঞ্জিতে উঠানামা করতে হতো। বর্তমানে এই সিড়ি নির্মাণ করায় আমরা অতি সহজে কোন প্রকার ঝুঁকি ছাড়া পুঞ্জিতে উঠানামা করতে পারব এবং আমরা চাই ভবিষ্যতে আমাদের সকল পুঞ্জিতে এরকম সিড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয় যাতে করে অন্যান্য পুঞ্জির বাসিন্দারা আমাদের মতো সহজে যাতায়াত করতে পারে। আমরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস ও কারিতাস বাংলাদেশ-কে আমাদের পুঞ্জিবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”

মন্তব্য করুন

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com